ঢাকা , সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ , ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-১৩ ১৬:০৯:৩৯
জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বর্তমান সরকার পার পাবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সংসদের বর্তমান অবস্থাকে ‘জুলাই প্রোডাক্ট’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, আমি সংসদেও বলেছি যে, জুলাই নাই আমরাও নাই। জুলাই আছে আমরা আছি, জুলাই আছে সরকার আছে, জুলাই আছে বিরোধী দল আছে, জুলাই নাই কিছুই নাই। এই জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না ইনশাআল্লাহ। গণভোটের গণরায়ের মাধ্যমে এই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। এর জন্য আবার জীবন দিতে হলে দেব, ইনশাআল্লাহ।

তিনি সোমবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন দাবিতে সপ্তাহব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ দলীয় ঐক্য এই সেমিনারের আয়োজন করে।

জামায়াতের আমির বলেন, দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে, এই সেমিনার আন্দোলনেরই একটি অংশ। এই আন্দোলনকে তিলে তিলে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। সফল হওয়ার আগে এই আন্দোলন থামবে না। আমিও কথা দিচ্ছি-আগামীর আন্দোলনে আমাকে সামনে পাবেন ইনশাআল্লাহ। তিনি আরো বলেন, যতদিন জাতির অধিকারের পক্ষে লড়াই করা প্রয়োজন, ততদিন তারা সংসদে থাকবেন, তার বাইরে এক সেকেন্ডও নয়।

দড়ি টানা দেখে বিচারকের রায় দেওয়ার একটি গল্প তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্তের পেছনে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে। আমাদের দেশে, বিশেষ করে পার্লামেন্টে যাদের নাড়া দেখেন, প্রশ্ন আসে কে দড়ি টানে? সেই দড়িটা কোথা থেকে টান দেওয়া হয়? জাতি বুঝে।

তিনি সরকারের দ্বৈত নীতির সমালোচনা করে বলেন, একসময় গণভোট হারাম, আরেক সময় না এটা অর্ধেক হালাল। একসময় একই অর্ডারের গোস্ত হালাল, কিন্তু শুরুটা জুলটা তার হারাম। আমরা এটা পার্লামেন্টে বলেছি, আমাদের কণ্ঠ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, আমরাও সমানতালে চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ- সুযোগ পাই না পাই আমরা কণ্ঠ বন্ধ করিনি, কারণ জনগণ আমাদেরকে তো তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে সেখানে পাঠিয়েছে। মুখ বন্ধ করে বসে থাকার জন্য পাঠায়নি।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তার ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সংসদে যাওয়ার আগেই বলেছি, এই সংসদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নেওয়ার জন্য আমরা এখানে যাচ্ছি না। অনেক সুবিধা আছে, স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেব, নিবই না, যেটা না নিয়ে পারবো না সেইটা নেব। অবৈধ কোনো দিকে আমাদের চোখ এবং হাত যাবে না। আমরা এখনো এই নীতিতে অটল আছি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কেবল শিক্ষিত ছাত্র বা রাজনীতিবিদদের আন্দোলন নয়। এই আন্দোলনের শহীদদের ৬২ শতাংশই শ্রমিক। তিনি বলেন, তারা কি কৌটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল? কৌটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল আমাদের যুবসমাজ, ছাত্র সমাজ। তারা নেমেছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। তারা নেমেছিল একটা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে।

আন্দোলনের শুরু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন শুরু করতে হবে এটা কি? এটাও আন্দোলনের অংশ। যেদিন আমরা নোটিশ মুভ করেছিলাম যে, সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করতে হবে, আলোচনার পর যখন তাদের মেজরিটির গায়ের জোরে এটাকে নাকচ করে দেওয়া হলো, আমরা সেদিন সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছিলাম। এসে বলেছিলাম, জনগণের রায় নিয়ে রায় বাস্তবায়নের জন্য এখানে এসেছিলাম। অন্যায়ভাবে এই রায়কে পদদলিত করা হয়েছে। এখন জনগণের রায় নিয়ে আবার জনগণের পার্লামেন্টে আমরা চলে যাচ্ছি।

 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ